বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী ও উৎসবমুখর করার প্রত্যয় নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপে কাজ শুরু করেছে।
এই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক তাৎক্ষণিক বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ এবং প্রস্তুতির সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, সিল, স্ট্যাম্প প্যাড, চার্জারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসির ধারণা, সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই সচিবালয় পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে কর্মকর্তারা ক্রয় কার্যক্রমের জন্য একটি সুবিন্যস্ত সময়সূচি অনুসরণের ওপর জোর দেন। বর্তমানে ইসির কাছে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ মজুদ থাকলেও প্রত্যাশিত চাহিদার সঙ্গে তুলনা করে নতুন করে ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে অমোচনীয় কালিকে নির্বাচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটি আমদানিনির্ভর হওয়ায় সাধারণত সরবরাহে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগে। তবে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে কিছু ঠিকাদার তুলনামূলক কম সময়ে এই কালি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মার্চের পরিবর্তে জানুয়ারিতেই ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
সাধারণত ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং জনমত গ্রহণের পর ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় এগিয়ে আনার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে ইসি।
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কারের মাত্রার ওপর নির্ভর করে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এই ইঙ্গিতের পর সিইসি এ এম এম নাছির উদ্দিন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কসমিক ডেস্ক