দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া লাগানো কেন ইসলামে বড় গুনাহ? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া লাগানো কেন ইসলামে বড় গুনাহ?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 4, 2026 ইং
দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া লাগানো কেন ইসলামে বড় গুনাহ? ছবির ক্যাপশন:

ইসলামে পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে তাদের জন্য জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যেন তারা একে অপরের কাছে শান্তি লাভ করে এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া বজায় থাকে (সুরা রুম, আয়াত ২১)।

এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দাম্পত্য জীবন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা নয়; বরং এটি একটি পরিপূরক ও শান্তিময় সম্পর্ক। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের “পোশাক” স্বরূপ—যেমন পোশাক মানুষকে রক্ষা করে, তেমনি তারা একে অপরকে মানসিক ও সামাজিকভাবে সুরক্ষা দেয়।

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, পারিবারিক জীবনে সৌহার্দ্য, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনে স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের আদর্শ স্থাপন করেছেন। তিনি নিজেও নিজের সাজগোজ ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই আচরণ প্রত্যাশা করতেন।

তবে বাস্তব জীবনে নানা কারণে দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ, অবহেলা, অর্থনৈতিক চাপ, মানসিক দূরত্ব কিংবা পারিবারিক অশিক্ষা এসব সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। ইসলাম এ ধরনের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে এবং সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়েছে।

কোরআনে বলা হয়েছে, কোনো স্ত্রী বা স্বামীর মধ্যে অবাধ্যতা বা বিরোধ দেখা দিলে প্রথমে উপদেশ দিতে হবে, এরপর শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজনে পারিবারিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে হবে (সুরা নিসা, আয়াত ৩৪–৩৫-এর ভাবার্থ)। ইসলাম কখনোই সম্পর্ক ভাঙনকে প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ করেনি।

অন্যদিকে, হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালাক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বৈধ কাজগুলোর মধ্যে একটি। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙার আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানোকে অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ হিসেবে দেখা হয়েছে। এটি শুধু পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে না, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি করে। হাদিসে শয়তানের একটি কার্যকলাপের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—শয়তানের বাহিনী মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

অর্থাৎ, দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙা কেবল মানবিক ক্ষতি নয়, বরং আধ্যাত্মিকভাবেও বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

সমাজে অনেক সময় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষ দাম্পত্য সম্পর্কে বিভেদ সৃষ্টি করে। ইসলাম এসব কাজকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং পরস্পরের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে পরিবার রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য ইসলাম কয়েকটি মূলনীতি দিয়েছে—পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ বজায় রাখা, ধৈর্য ধারণ, ভুল ক্ষমা করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করলে পরিবারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ। একটি পরিবার ভাঙলে শুধু দুইজন মানুষ নয়, পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত পরিবারকে রক্ষা করা, সম্পর্ককে শক্তিশালী করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গণভোট নয়, রাজনৈতিক আচরণেই পরিবর্তন আসে: আসিফ সালেহ

গণভোট নয়, রাজনৈতিক আচরণেই পরিবর্তন আসে: আসিফ সালেহ