মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৈশ্বিক অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং সে অনুযায়ী একটি কার্যকর সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়তে পারে। এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের আলোকে তারা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করবে। সেই অনুযায়ী একটি সমন্বিত সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করার দায়িত্বও এই কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া প্রয়োজন হলে কমিটি তাদের কার্যক্রমে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ মতামত বা সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কমিটি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও পরিকল্পনা তৈরি করবে।
এই কমিটির প্রশাসনিক ও সচিবিক সহায়তা প্রদান করবে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের মাধ্যমে কমিটির সভা আয়োজন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সরকার মনে করছে, বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ এবং শ্রমবাজারের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যেই এই কমিটি কাজ করবে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা মিলবে।
কসমিক ডেস্ক