দেশের তৈরি পোশাক ও শিল্পখাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক A K Azad। তিনি বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পব্যবস্থা দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর হয়ে উঠছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনও সেই গতিতে এগোতে পারছে না।
রবিবার একাত্তর বিজনেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কে আজাদ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা পণ্যের মূল্য বাড়াবেন না। ফলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। এই বাস্তবতায় তিনি তার প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে জনবল কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব কর্মী দক্ষ ও অভিজ্ঞ হওয়ায় তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
এ কে আজাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, প্রযুক্তির কারণে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি না হলে শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান চাপের মুখে রয়েছে। তার মতে, ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ উন্নত করা জরুরি।
এ শিল্প উদ্যোক্তা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই শিল্পখাত দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে।
কসমিক ডেস্ক