নদী বাঁচাতে পারলেই টাঙ্গাইল বাঁচবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নদী বাঁচাতে পারলেই টাঙ্গাইল বাঁচবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
নদী বাঁচাতে পারলেই টাঙ্গাইল বাঁচবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ছবির ক্যাপশন:

টাঙ্গাইলের নদী রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, নদীকে বাঁচাতে পারলেই টাঙ্গাইলকে বাঁচানো সম্ভব। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

শনিবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ার ক্ষুদিরামপুর এলাকায় নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং দখল ও দূষণের শিকার ধলেশ্বরী নদীলৌহজং নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং আশপাশের কৃষিজমি ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যা টাঙ্গাইল পৌর এলাকাকে ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা করবে। এতে শহরের অবকাঠামো ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘টাঙ্গাইল জেলার ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাঈন উদ্দিন, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খনন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীগুলোকে জীবিত রাখা গেলে শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষিক্ষেত্রে সেচ সুবিধা উন্নত হবে।

সব মিলিয়ে, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন প্রকল্প টাঙ্গাইলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য দোকান গড়ে দিতে অর্থ সহায়তা

নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য দোকান গড়ে দিতে অর্থ সহায়তা