নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে গভীর রাতে একটি বসতঘরের দরজার বাইরে তালা লাগিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহনাট্যবিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের বসতঘর পুড়ে গেছে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চানন্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াসিন আলী সুজনের নলেরচর গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মো. বেলাল মিয়া বসবাস করতেন। তবে ঘটনার সময় তিনি ঘরে উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, রাতে একদল দুর্বৃত্ত বসতঘরের দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দূর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ঘরের দরজা খুলতে গিয়ে তারা দেখতে পান বাইরে থেকে তালা লাগানো। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে শিখা।
ইয়াসিন আলী সুজন দাবি করেন, তার বাবা ঘরে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি বলেন, প্রকল্প বাজারে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং অভিযোগটি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর জের ধরেই সন্ত্রাসীরা তার ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। শান্ত হাতিয়াকে অগ্নিসংযোগ ও হামলার মাধ্যমে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস কোনো দলের জন্যই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং ঘটনার নিন্দা জানান।
হাতিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং বিস্তারিত জেনে পরে বক্তব্য দিতে পারবেন।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক