ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সরকারি জমির লিজ ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংস এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিণা গ্রামের সঞ্জয় মালোর সঙ্গে প্রতিবেশী মাসুদ চৌধুরী ও দুলাল চৌধুরীর মধ্যে সরকারি জমি লিজ নেওয়া এবং দখল বজায় রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংশ্লিষ্ট জমির অধিকার ও ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে। কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আশপাশের এলাকা থেকে সরে যান। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
আহতদের সবার নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে চিকিৎসা চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সালথা থানা-এর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওসি (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জমি সংক্রান্ত এই বিরোধ দীর্ঘদিনের। সময়মতো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে সহিংস রূপ নেয়। সরকারি জমি লিজ এবং তার দখল বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ গভীর আকার ধারণ করেছিল।
এ ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
গ্রামবাসীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলমান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক