নাফ নদী ও স্থলপথে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নাফ নদী ও স্থলপথে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
নাফ নদী ও স্থলপথে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে জ্বালানি তেল পাচারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে নাফ নদী এবং স্থলপথে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট এলাকায় নাফ নদীতে বিজিবির নৌ-টহল কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।

এ সময় ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার, নৌ-প্লাটুন কমান্ডার (নেভি) লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই আশঙ্কা মাথায় রেখে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, স্থলপথের বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদীতে নৌ-টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য পাচারপথগুলোও চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কিছু মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযান সীমান্ত এলাকায় প্রবেশের সময় অল্প জ্বালানি নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি বহন করে পাচারের চেষ্টা করা হয়।

এসব অনিয়ম প্রতিরোধে বিজিবি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি বহন না করার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চেকপোস্টগুলোতে যানবাহন ও নৌযানের তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া আরও জানান, বিদ্যমান চেকপোস্টের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার বা অবৈধ পরিবহন সম্ভব না হয়।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন জ্বালানি পাম্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে কেউ অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে না পারে।

এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেলের মজুদ সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা এবং অপচয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি এবং অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজিবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ আইনজীবী

বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ আইনজীবী