পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯০০ মিটার সড়ক ও একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দায়িত্ব পায় জিয়ানগর উপজেলার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পিচ ঢালাই ও কালভার্ট নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি। বরং পুরোনো সড়কের ইট তুলে নেওয়ার পর রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটির আশপাশে রয়েছে চিরাপাড়া কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরানী মাদ্রাসা, হাফিজি মাদ্রাসা এবং দুটি সরকারি আবাসন প্রকল্পের প্রবেশপথ। ফলে এটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এলাকার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম দুলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও কালভার্টের কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
চিরাপাড়া কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ বলেন, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট ও বেহাল সড়কের কারণে শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান মিন্টু জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল জানান, কাজের অগ্রগতি না থাকায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন না করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে, যাতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা যায়।
কসমিক ডেস্ক