জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাসের সমস্যায় ভুগছে বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।
সোমবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থানে উঠে এসেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৮৫, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল ৯ নম্বরে। ঢাকার AQI স্কোর ৯২, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিদায়ক, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এমন বাতাসে অবস্থান করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী শান্তিয়াগো। শহরটির স্কোর ১৮২। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের স্কোর ১৬৬। এছাড়া পাকিস্তানের লাহোর ১৩৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং কঙ্গোর কিনশাসা ১৩২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার। ঢাকায় বর্তমানে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও অতিরিক্ত যানজটও বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর ওপরে গেলে তা চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য এই পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ কমাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক