পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ১৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ১৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 4, 2026 ইং
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে অব্যবস্থাপনা, ১৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন:

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট আবারও আলোচনায় এসেছে অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে। সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাস নদীতে পড়ে ২৬ জনের প্রাণহানির পর এই ঘাটের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নতুন করে সামনে এসেছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়নের জন্য ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় পন্টুনে নিরাপত্তা ব্যারিকেড, ডাবল বলার্ড এবং যাত্রী চলাচলের জন্য করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনো কিছুই দৃশ্যমান নয়।

তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নানা জটিলতার অজুহাতে ২০২৫ সালে এটি বাতিল করা হয়। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কেন বাস্তব উন্নয়ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটের অ্যাপ্রোচ রোড বেহাল অবস্থায় রয়েছে এবং পন্টুনগুলো জরাজীর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন এই ঘাট দিয়ে পারাপার হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপনের জন্য একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে পন্টুনে সেফটি বর্ডার ও র‍্যাম্প পোস্ট বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অধীনে প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকার ২৬২টি অডিট আপত্তি ঝুলে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে, যা পুরো খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আইন অনুযায়ী, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ অনুসারে পন্টুন ও ঘাটের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর এবং নিরাপদ পারাপারের দায়িত্ব বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর।

তবে বাস্তবে দায়িত্ব নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পন্টুনের মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এক ধরনের দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ঘাটে যাত্রী নামিয়ে আলাদাভাবে গাড়ি ওঠানোর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ফলে যাত্রী ও যানবাহনের হুড়োহুড়িতে পন্টুনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিরাপত্তার জন্য যে ব্যারিকেড থাকার কথা ছিল, তা বাস্তবে নেই। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রকল্প ব্যর্থতা শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তারা বলছেন, স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট এখন শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই নয়, বরং অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দুই দশক পর প্রত্যাবর্তন, প্রধানমন্ত্রিত্বের পথে তারেক রহমান

দুই দশক পর প্রত্যাবর্তন, প্রধানমন্ত্রিত্বের পথে তারেক রহমান