২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগে তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে যান।
শনিবার (৩০ মে) একটি ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারেননি।
মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, পদত্যাগপত্রটি মূলত তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত চিঠি ছিল, যেখানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। ওই চিঠিটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের মাধ্যমে টাইপ করার কথা ছিল। তবে গণভবনের বাইরের পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেটি আর চূড়ান্তভাবে টাইপ করার সুযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, ৪ আগস্ট রাত থেকে ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। গণভবনের চারপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকিতে একাধিকবার বার্তা আসতে থাকে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকারে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে শেখ হাসিনা গণভবন ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি একটি ভ্যানিটি ব্যাগ একটি চেয়ারের ওপর রেখে যান। পরে সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যাগটি ফেরত আনা হয়। ওই ব্যাগের মধ্যেই নাকি সেই আলোচিত তিন পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র ছিল।
এই দাবির পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দাবিটি নিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি উভয়ই তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহ এখনো জনমনে ব্যাপক আগ্রহের বিষয়। এ ধরনের নতুন তথ্য বা দাবি জনমনে প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দেয়, তবে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সাক্ষাৎকারে উঠে আসা এই বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও, এর কোনো স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো দাবি পর্যায়ের মধ্যেই রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক