আগামী জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, বাজেট পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া খাতকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন তিনি। এসব আলোচনার ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার মতে, দেশের ক্রীড়াব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে নীতিগত পরিবর্তন জরুরি।
আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে এ পরিবর্তন কার্যকর হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া চর্চা নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা দক্ষ প্রশিক্ষকের অধীনে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় খেলোয়াড়দের একটি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং পেশাদারভাবে খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে পারবেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে হলে খেলোয়াড়দের স্থিতিশীল আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা বিকাশের জন্য ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার কথাও জানিয়েছেন আমিনুল হক। বর্তমানে সাতটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে এ কর্মসূচি শুরু হলেও ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন খেলাধুলা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের পরপরই এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে। এরপর জুন-জুলাইয়ে বাজেট সেশন এলে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভলিবল ও হ্যান্ডবলসহ অন্যান্য খেলাকেও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান তারা। লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত খেলাধুলার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। তিনি মনে করেন, প্রতিভা কেবল শহরকেন্দ্রিক নয়; গ্রাম ও মফস্বলেও অসংখ্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা পেলে তারাই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেট-পরবর্তী সময়কে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও নীতিগত সমর্থন পেলে ক্রীড়া খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
সাবেক ক্রীড়াবিদদের সম্পৃক্ততা, শিক্ষাক্রমে খেলাধুলার অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত কর্মসূচি—সব মিলিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে একটি সমন্বিত সংস্কারের ইঙ্গিত মিলেছে তার বক্তব্যে। এখন দেখার বিষয়, জাতীয় বাজেটের পর এসব পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায় এবং দেশের ক্রীড়া খাতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।