ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নবনির্বাচিত এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর জন্য আলাদা কোন পুস্পস্তবকের ব্যবস্থা রাখেনি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। ২১শের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ বেদীতে এসে নিজ নামে পুষ্পস্তবক না পেয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েন মন্ত্রী। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) নিন্দার ঝড় উঠেছে।
একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্প স্তবক অর্পনের প্রাক্কালে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জেলা প্রশাসককে বলেন ” আমার পুষ্পস্তবক কই? আমি তো প্রশাসনিক কোন লোক না।” মন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্প স্তবক না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত প্রকাশ করেন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের স্লোগান নিয়েও দেখা যায়।
সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন প্রশাসনের করার কথা থাকলেও, এই উদাসীনতা শহীদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দারের দায়িত্বহীনতা ও মন্ত্রীর ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে পোষ্ট করেছেন। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলা প্রশাসক।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাজুল চৌধুরী জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সকল আয়োজন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করার কথা থাকলেও তারা উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে শুধু মন্ত্রী নন আমাদেরকেও বিব্রত অবস্থায় ফেলেছেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠক শামীম আহমেদ জানান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের এমন সমন্বয়হীনতা সাধারণত ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচিত।
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান ভিপি আনিছ জানান, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করবেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এটা কেন হলো তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট