গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি চিকিৎসকসহ অন্তত দুজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। ঈদুল আজহার চতুর্থ দিন শনিবার এসব ঘটনা ঘটে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্র অনুযায়ী, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-ইয়াফা মেডিকেল হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান ডা. জামাল আবু আবাউন ড্রোন হামলায় নিহত হন। তিনি আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের কাছে বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর চালানো হামলার সময় প্রাণ হারান।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর তাঁর মরদেহ এবং এক শিশুসহ তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। এই ঘটনায় চিকিৎসক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি মধ্য গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গাজা সিটির ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ফিরাস মার্কেটের কাছে আরেকটি ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে। এ ছাড়া উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার ফলে আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের একাধিক স্থানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে নতুন করে সহিংসতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও বাস্তবে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে ফিলিস্তিনি পক্ষ অভিযোগ করছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও গভীর করছে।
কসমিক ডেস্ক