যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ জোট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক মন্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর মধ্যে কৌশলগত ও নীতিগত পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে Israel ও United States-এর জোট মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার কারণে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। Iran ও Lebanon-সংক্রান্ত নীতিতে মতপার্থক্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটেও রয়েছেন। দুর্নীতির মামলার কারণে তার আইনি অবস্থান দুর্বল এবং আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তার পররাষ্ট্রনীতি আরও আক্রমণাত্মক বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ফাঁস হওয়া কথিত আলোচনা এবং সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্পকে ইসরায়েল নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমঝোতার দিকে যেতে চাইছে, যেখানে লেবানন প্রসঙ্গও যুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এই সংঘাতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে আগ্রহী। ফলে দুই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইসরায়েল নীতি নিয়ে বিভাজন বাড়ছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন” শিবিরের মধ্যেও ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এটি কৌশলগত চাপ ও পুনর্মূল্যায়নের একটি পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নির্ভরতা দুই দেশকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত রাখবে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বর্তমান মতপার্থক্য শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি, ইরান ও লেবানন সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন—সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই সম্পর্ক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক