আসন্ন পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দল মাঠে নামছে একটি অনুশীলনমূলক ম্যাচে। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সেরা পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া অল স্টার দল। আগামী ৭ মার্চ দুপুরে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ।
গত মাসের ২৩ তারিখ শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ফাইনাল এখনও বাকি। আগামী ৩ মার্চ মিরপুরেই শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সেন্ট্রাল জোন ও নর্থ জোন। ওই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই খুব বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। কারণ তিন দিনের ব্যবধানে বিসিএলের সেরা পারফর্মারদের নিয়ে গঠিত অল স্টার দল নামবে জাতীয় দলের বিপক্ষে।
মূলত পাকিস্তান সিরিজের আগে প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতেই এই ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিরিজের আগে নিজেদের কম্বিনেশন, ফর্ম এবং কৌশল যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই লড়াইকে।
দুই দলের চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিসিএলের ফাইনাল শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দল ও অল স্টার দলের একাদশ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ম্যাচে পারফরম্যান্স পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াড নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিসিএলে ধারাবাহিক ভালো করা ক্রিকেটারদের জন্য এটি জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় দলের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলক একটি ম্যাচে মাঠে নামলে খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবেন। একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে মিরপুরের কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
পাকিস্তান দলের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ৯ মার্চ। এরপর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। বাকি দুটি ম্যাচ হবে যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ মার্চ। সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ফাইনালের পরপরই অল স্টার দল গঠন এবং জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন—সব মিলিয়ে মার্চের শুরুটা ব্যস্ত সূচির মধ্য দিয়েই কাটাতে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের। বিসিএলে যারা পারফর্ম করেছেন, তাদের সামনে থাকছে নিজেদের আরও একবার প্রমাণের সুযোগ। অন্যদিকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য এটি হবে আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুত করার শেষ পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান সিরিজের আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিসিএলের পারফর্মারদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, আর জাতীয় দলের জন্য এটি হবে সিরিজের আগে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন খুঁজে নেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ।