দেড় মাসেই ধসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দেড় মাসেই ধসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 14, 2026 ইং
দেড় মাসেই ধসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ ছবির ক্যাপশন:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশে দেড় মাসের মধ্যেই ধস দেখা দিয়েছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে বাঁধের সিসি (কংক্রিট) ব্লক একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে নদীভাঙনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসা মানুষ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় সেই আশা ভেঙে গেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর অনেকেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ করেই বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই পদ্মার তীব্র স্রোতে সিসি ব্লকগুলো একের পর এক নদীতে তলিয়ে যেতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, হঠাৎ করেই বাঁধের ব্লক ভেঙে নদীতে পড়ে যেতে দেখে আতঙ্কে রাতেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নদীভাঙনে আগে ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল লতিফ খান, রিতা রাণী দেমনির চন্দ্র দে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আবারও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মো. শওকত হোসেন বলেন, যে বাঁধকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি যদি দেড় মাসের মধ্যেই ধসে পড়ে, তাহলে মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা নির্মাণে গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্লক বসিয়ে সাময়িক সমাধান নয়, বরং পুরো প্রকল্পের নকশা, নির্মাণমান এবং ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান যাচাই করতে হবে।

ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি ২০২১ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শুরু থেকেই কাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল। বর্ষার শুরুতেই বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৩০ বছর আত্মগোপনে থাকা হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

৩০ বছর আত্মগোপনে থাকা হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার