দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো দলটি বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছে, আর সেই লক্ষ্য সামনে রেখে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি স্কোয়াড ঘোষণা করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
ঘোষিত দলে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে দুই নতুন মুখ—ডিফেন্ডার অলওয়েথু মাখানিয়া এবং ব্র্যাডলি ক্রস। এই দুই তরুণ খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি দলটির রক্ষণভাগে নতুন শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং স্টাফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছে দেশের দুই শীর্ষ ক্লাব মামেলোদি সানডাউনস এবং অরল্যান্ডো পাইরেটস। এই দুই ক্লাব থেকে মোট আটজন করে খেলোয়াড় দলে জায়গা পেয়েছেন, যা দলে ক্লাব-ভিত্তিক বোঝাপড়া ও সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
গোলরক্ষক বিভাগে আছেন সিফো চেইনে (অরল্যান্ডো পাইরেটস), রিকার্ডো গস (সিওয়েলেলে) এবং রনওয়েন উইলিয়ামস (মামেলোদি সানডাউনস)। অভিজ্ঞতা ও ফর্ম বিবেচনায় এই ত্রয়ীকে দলের শক্ত ভিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিফেন্ডারদের মধ্যে আছেন অব্রি মোদিবা, খুলিসো মুদাউ ও খুলুমানি এনদামানে (সানডাউনস), পাশাপাশি পাইরেটসের কামোগেলো সেবেলেবেলে ও এনকোসিনাথি সিবিসি। এছাড়া ব্র্যাডলি ক্রস (কাইজার চিফস), অলওয়েথু মাখানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন/যুক্তরাষ্ট্র) এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে খেলা আরও কয়েকজন ডিফেন্ডার রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দলে যোগ দিচ্ছেন।
মিডফিল্ডে রয়েছে শক্তিশালী সমন্বয়। অরল্যান্ডো পাইরেটসের অসউইন অ্যাপোলিস, থালেন্তে এমবাথা ও রেলেবোহিলে মোফোকেং দলে আছেন। অন্যদিকে সানডাউনসের জেডেন অ্যাডামস, তেবোহো মোকোয়েনা ও থেম্বা জোয়ানে দলে ভারসাম্য এনেছেন। এছাড়া স্পেহেফেলো সিথোলে (পর্তুগাল) ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে দলে যোগ দিয়েছেন।
ফরোয়ার্ড লাইনেও রয়েছে শক্তিশালী উপস্থিতি। এভিডেন্স মাকগোপা ও ছেপাং মোরেমি (পাইরেটস), লাইল ফস্টার (বার্নলি/ইংল্যান্ড), থাপেলো মাসেকো (সাইপ্রাস) এবং ইকরাম রেইনার্স (সানডাউনস) আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য এনেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা অতীতে তিনবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে। তবে দীর্ঘ সময় পর আবারও বড় মঞ্চে ফেরাটা দেশটির ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সানডাউনস ও পাইরেটসের মতো ক্লাবের খেলোয়াড়দের আধিপত্য দলটিকে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই স্কোয়াডে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ রয়েছে, যা বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নতুন মুখদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা কতদূর এগোতে পারে বিশ্বকাপ মঞ্চে।
কসমিক ডেস্ক