ঢাকা-কে বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদা খানম। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অঙ্গীকার।
শনিবার রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ফরিদা খানম তার বক্তব্যে বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঢাকা আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং মানুষের সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে অনেক সময় বৃক্ষরোপণকে একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো সৌখিন কাজ নয়; বরং এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে এবং তার যথাযথ পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বৃক্ষরোপণকে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া সম্ভব।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্ম যদি পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই এখনই সময় সবাইকে এগিয়ে এসে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার। গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যা করা শুধু একটি কাজ নয়, এটি একটি চলমান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ যদি নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া যায় এবং সাধারণ মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক