মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী Tehran-এর পূর্ব ও পশ্চিম অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান।
অন্যদিকে Israel এই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানে সাম্প্রতিক কোনো সামরিক অভিযান তারা পরিচালনা করেনি। ফলে তেহরানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz এক বক্তব্যে বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও নেতৃত্বের ওপর হামলার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় রয়েছে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করার প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি তেমন দেখা যাচ্ছে না।
ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেয়নি। দেশটির অভিযোগ, আলোচনায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি একটি অস্থির ভারসাম্যের দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে। তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা সেই প্রস্তুতিরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সর্বোপরি, তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় হওয়া নতুন কোনো হামলার ইঙ্গিত দেয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি যে ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে এই সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক