কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর পালংখালী বিওপির একটি টহলদল সীমান্তবর্তী কাটাখাল এলাকায় অবস্থান নেয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারি বৃষ্টির মধ্যে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি তার হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ওই বস্তার ভেতর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বস্তার ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেটে বায়ুরোধীভাবে রাখা ছিল মোট ১০ কাটে বিভক্ত ১ লাখ পিস ইয়াবা।
উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে এগুলো মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও ওই এলাকায় অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তার অবস্থান শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় নিয়মিতভাবে মাদক চোরাচালানের চেষ্টা হয়ে থাকে। তবে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে অনেক চালানই আটক করা সম্ভব হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই অভিযানও তারই একটি অংশ। সীমান্ত এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সফলভাবে ইয়াবার বড় চালান আটক করতে সক্ষম হন।
মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবার মতো মাদক সমাজে তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, উখিয়া সীমান্তে এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চোরাচালান চক্র পুরোপুরি নির্মূল করতে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
কসমিক ডেস্ক