প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বা সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এই মন্তব্য তিনি রবিবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে দেন, যা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রেসসচিব বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। আপনি দেখেছেন, তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।” তিনি আরও বলেন, এটি এমন একটি নির্বাচন, যেখানে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুলিশের দায়িত্ব পালন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা নিজে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি সরাসরি ১৭টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং পুলিশ কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে, যা এই ধরনের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা সমাজে আইন শৃঙ্খলা এবং ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
প্রেসসচিব আরও জানান, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সকল দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে।
শফিকুল আলমের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, নির্বাচনের সফলতা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, বরং পুলিশের মর্যাদা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন প্রযুক্তি, যেমন বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার, এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করেছে।
প্রেসসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ তৎপরতা নির্বাচনের সময় সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এটি ভবিষ্যতে আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সর্বশেষে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলমের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, পুলিশি কার্যক্রম এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার উপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে।