হাম আতঙ্ক: ময়মনসিংহ মেডিক্যালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাম আতঙ্ক: ময়মনসিংহ মেডিক্যালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 26, 2026 ইং
হাম আতঙ্ক: ময়মনসিংহ মেডিক্যালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ ছবির ক্যাপশন:

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান জানান, মৃত শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। গত ২১ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণের হার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৮৫৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো টিকা না নেওয়া, পুষ্টিহীনতা এবং ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এই রোগের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এখানে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ আরও না ছড়ায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা। অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে হাসপাতালের ওপর চাপও বাড়ছে। একদিকে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি থাকায় ঝুঁকি বেশি।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই কেবল এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নবীনগরে অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষা, মোমবাতির আলোয় লিখলেন শিক্ষা

নবীনগরে অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষা, মোমবাতির আলোয় লিখলেন শিক্ষা