পরমাণু ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে পারে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধিরা সোমবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারেন। ইরান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিরা রোববারই সেখানে পৌঁছাতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক আগে থেকেই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য চলছে।
এর আগে গত সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদও শিগগিরই শেষ হতে চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে এই নতুন আলোচনা কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টা। তবে ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে” এবং তিনি কিছু “ভালো খবর” পেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হরমুজ প্রণালি ইস্যুও আলোচনার বাইরে নয়। কারণ এই জলপথ বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের ওপর চাপ বা অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই আলোচনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো বিশ্ব রাজনীতির জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর সোমবারের বৈঠকের দিকে, যেখানে নতুন কোনো সমঝোতার পথ খুলে যায় কি না—তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়।
কসমিক ডেস্ক