জেনারেটর বিকল, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কটিয়াদী স্বাস্থ্যসেবা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জেনারেটর বিকল, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কটিয়াদী স্বাস্থ্যসেবা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 25, 2026 ইং
জেনারেটর বিকল, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কটিয়াদী স্বাস্থ্যসেবা ছবির ক্যাপশন:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালটিতে জেনারেটর বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর থাকে না। ফলে গরমের মধ্যে রোগীরা চরম কষ্টে দিন পার করছেন এবং চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো স্বল্প সময়ের জন্য, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এতে শুধু রোগীরাই নয়, তাদের সঙ্গে থাকা স্বজন এবং কর্তব্যরত নার্সরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। গরমের তীব্রতায় অনেকেই অসহ্য পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন, যা নতুন করে অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় শিশু, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে সীমিতসংখ্যক বাতি জ্বলছে। বিদ্যুৎ না থাকলে আইপিএসের মাধ্যমে অল্প কিছু আলো জ্বালানো গেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক সময় পুরো ওয়ার্ডই অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই অবস্থায় রোগী ও স্বজনদের কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকছেন, আবার কেউ সামান্য বাতাসের খোঁজে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ওয়ার্ডগুলোর ভেতরের চিত্র আরও করুণ। অধিকাংশ রোগী হাতপাখা দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। যাদের কাছে হাতপাখা নেই, তারা গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে পড়ছেন। কেউ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে একটু বাতাস পাওয়ার চেষ্টা করছেন। পুরো পরিবেশে যেন দমবন্ধ করা পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা রোগীদের জন্য আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকলে হঠাৎ কোনো শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে প্রয়োজনীয় নেবুলাইজেশন করানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীদের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু গরমই নয়, অন্ধকারও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। দীর্ঘ সময় অন্ধকারে থাকতে হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের কান্না আর রোগীদের কষ্টের শব্দে পুরো হাসপাতাল পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক বিলকিস আক্তার জানান, তিনি তার ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছেন। এই সময়ের মধ্যে বহুবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। গরমের কারণে তার শিশু কষ্ট পাচ্ছে এবং বারবার কান্না করছে। শুধু হাতপাখা দিয়ে দীর্ঘ সময় স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

আরেক রোগী নাঈম মিয়া জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এভাবে থাকতে থাকলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একইভাবে, আচমিতা ইউনিয়নের রোগী শরিফ বলেন, তিনি দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ি থেকে চার্জার ফ্যান আনিয়েছেন। তীব্র গরম ও লোডশেডিং একসঙ্গে মিলে হাসপাতালে থাকা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ঈসা খান জানান, হাসপাতালের জেনারেটর বিকল থাকায় বিদ্যুতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জেনারেটর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আইপিএসের মাধ্যমে সীমিত কিছু বাতি চালু রাখা যাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলে জরুরি চিকিৎসা যেমন নেবুলাইজেশন করাও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি রোগী ও স্টাফদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জেনারেটর বিকল এবং তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের কষ্ট বাড়ছে এবং চিকিৎসাসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’