কোরবানি ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু পশু জবাইয়ের একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশ পালনের পাশাপাশি আত্মত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করে থাকেন। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে মুসলমানরা কোরবানির ইবাদত পালন করে থাকেন।
তবে সমাজে অনেক জায়গায় দেখা যায়, কোরবানির পশুর গোশত বা অন্যান্য অংশ বিক্রি করা হয়। এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে—ইসলামে কোরবানির গোশত বিক্রি করা জায়েজ কি না।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইসলামি বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী জানান, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কোরবানির পশুর গোশত বিক্রি করা সম্পূর্ণভাবে জায়েজ নয়। কারণ কোরবানির পশু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা হয়। তাই এর কোনো অংশ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা ইবাদতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি কিংবা হাড়—কোনো কিছুই বিক্রি করা শরিয়তসম্মত নয়। এসব আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহার করা বা দান করা উচিত।
হাদিসে হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া এবং অন্যান্য অংশ সদকা করেন এবং জবাইকারীর পারিশ্রমিক সেখান থেকেই প্রদান না করেন। (সহিহ মুসলিম: ১৩১৭)
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরারও জানান, কোরবানির পশুর কোনো অংশ ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়। কেউ যদি ভুলবশত এমনটি করে থাকেন, তবে সেই অর্থ সদকা করে দিতে হবে, যাতে ইবাদতের পবিত্রতা বজায় থাকে।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। তাই কোরবানির পশুর অংশ বিক্রি করা এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগে ভাগ করে—নিজের জন্য, আত্মীয়-প্রতিবেশীর জন্য এবং দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা উত্তম। এতে সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়।
সবশেষে বলা যায়, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও ত্যাগের মানসিকতা। তাই এর কোনো অংশ বিক্রি না করে যথাযথভাবে বণ্টন ও সদকার মাধ্যমে এই ইবাদত সম্পন্ন করাই ইসলামের নির্দেশিত পথ।
কসমিক ডেস্ক