নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। পরে আমির হামজার পক্ষে তার আইনজীবী কাজী তৌফিকুল ইসলাম জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আহমেদ গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড় ও থানা মোড়সহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সংক্ষিপ্ত আদালত পরিচালনা করা হয়।
আদালত পরিচালনাকালে মজমপুর গেটে সাঁটানো আমির হামজার ব্যানারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় আমির হামজার আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ভুল স্বীকার করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, তিনি রায়ে সন্তুষ্ট হলেও এখনো ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ না হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।
রায়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণবিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী সকল বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বেঞ্চ সহকারী সজীব আহমেদ জানান, প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রোকনুজ জামান বলেন, রায়ের কপি এখনো হাতে পাননি। আদালতের নির্দেশ সরাসরি প্রার্থীকে দেওয়া হলে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন, আর প্রশাসনের মাধ্যমে অপসারণের নির্দেশ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক বলেন, যেসব ব্যানারে মুদ্রণকারীর নাম নেই, সেগুলোতে স্টিকার লাগানো হয়েছে এবং এসব ব্যানার আর নামাতে হবে না বলে তারা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক