তাপপ্রবাহে বাড়ছে লোডশেডিং, বিপাকে জেলাবাসী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তাপপ্রবাহে বাড়ছে লোডশেডিং, বিপাকে জেলাবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 18, 2026 ইং
তাপপ্রবাহে বাড়ছে লোডশেডিং, বিপাকে জেলাবাসী ছবির ক্যাপশন:

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এতে জেলার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও তারা দাবি করেছেন।

জেলা বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে নেসকোর গ্রাহক দেড় লক্ষাধিক এবং পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার।

মধ্য এপ্রিলের এই সময়ে জেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ উভয়ই গড়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাইমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে তার এলাকায় ৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকার ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টার (এনএলডিসি) সারাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে।

তিনি আরও বলেন, “যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা বিভিন্ন ফিডারে ভাগ করে দেওয়া হয়। সরবরাহ কম হলে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হয়, যা সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।”

নেসকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম জানান, সব সময় লোডশেডিং একইভাবে হচ্ছে না। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিবগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, সম্প্রতি একদিন এলাকায় ৭.৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া গেছে। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে স্থানীয়দের।

গোমস্তাপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিদ হাসান বলেন, অনেক সময় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তবে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ফজলুর রহমান জানান, বর্তমানে গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কিছু সময় এটি ৪০ শতাংশ পর্যন্তও পৌঁছেছে। তবে হাসপাতাল ও জরুরি স্থাপনায় লোডশেডিং তুলনামূলকভাবে কম রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ধান কাটা মৌসুম শেষ হলে এবং চাহিদা কমলে লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইসরায়েলের হামলার পর ইরানে এসিড বৃষ্টির আশঙ্কা

ইসরায়েলের হামলার পর ইরানে এসিড বৃষ্টির আশঙ্কা