জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মাত্র আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. লিটন মিয়া (৪৮)। তিনি উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী চাচা। শিশুটির বাবা থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে বসবাস করত। গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত লিটন মিয়া শিশুটিকে একা পেয়ে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্তের স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হলে লিটন মিয়া শিশুটিকে ছেড়ে দেয়। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং শিশুটির হাতে ১০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে দাদা-দাদিকে বিষয়টি জানায়। তবে সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে তারা প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে ঈদের ছুটিতে শিশুটির মা-বাবা বাড়িতে এলে পুরো ঘটনা তাদের সামনে প্রকাশ পায়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা দেরি না করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মেয়েটি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। এমন অবস্থায় তার সঙ্গে এই নৃশংস আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবিও জোরালো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক