অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পেজের এক পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না। এর মাধ্যমে আগামীতে এই পেজ থেকে কোনো নতুন আপডেট, ঘোষণা বা তথ্য পাওয়া যাবে না।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ মাসের সময়কালজুড়ে পেজে প্রদত্ত সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ভক্ত ও অনুসারীদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা তাদের যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ এবং মূল্যবান করেছে। এটি এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন প্রচেষ্টা ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।
ফেসবুক পেজটি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে, যদিও পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না, তবে নাগরিকদের সঙ্গে গণমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপের তথ্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই ফেসবুক পেজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ১৮ মাসে নাগরিকরা পেজের মাধ্যমে নানারকম মতামত, সমালোচনা ও প্রশংসা জানিয়েছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা তাদের দায়িত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ পর্যালোচনা করছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন কাঠামোয় জনগণের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত থাকার পরিকল্পনা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল যোগাযোগের অন্য মাধ্যমে জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আপডেট প্রদান অব্যাহত থাকবে।
ফেসবুক পেজ বন্ধের ঘোষণা সামাজিক ও ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নাগরিকরা গত ১৮ মাসে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ পেয়েছেন, এবং এই বন্ধের পর নতুন যোগাযোগের মাধ্যমের ওপর নজর রাখতে বলা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বন্ধ হওয়া সরকারের ডিজিটাল উপস্থিতি এবং নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেজটি বন্ধ হলেও, সরকারের স্বচ্ছতা, জনগণের সঙ্গে সংযোগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।