চলতি এপ্রিল মাসে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ২৬ দিনেই দেশে এসেছে ২৭১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয়। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত বছর একই সময়ে দেশে এসেছিল ২২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭২ কোটি ডলারের কাছাকাছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৯২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এটি গত বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করে।
ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
২০২৪ সালের শেষ মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের ধারা ইতিবাচক ছিল। ডিসেম্বরে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এছাড়া অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের চাপ কমাতে রেমিট্যান্স একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈধ পথে টাকা পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি এবং প্রণোদনা ব্যবস্থার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতিও এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরেও প্রবাসী আয় ছিল রেকর্ড পরিমাণ। ওই অর্থবছরে দেশে এসেছে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে তারা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শ্রমবাজারের পরিবর্তন ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, এপ্রিল মাসের প্রথম ২৬ দিনের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক