বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত রাখা ১৯০ ব্যারেল ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে আবদুল্লাহ গাজী নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে পাথরঘাট পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় মেসার্স গাজী স্টোর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়। জানা যায়, উদ্ধারকৃত ডিজেল জেলেদের মধ্যে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে উপকূলীয় এলাকায় জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে পারছিলেন না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। মেসার্স গাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ গাজী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিজেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে জেলেরা দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরতে পারেননি, আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ফিশিং ট্রলার মালিকদের কাছে বিতরণ করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে জেলেরা আবার স্বাভাবিকভাবে সাগরে মাছ ধরতে পারবেন।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি তেলের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে ডিজেল তালিকা অনুযায়ী রাতেই বিতরণ করা হবে।”
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, “জ্বালানি তেল সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম, মজুতদারি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই অভিযানের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জন্য নিরাপদ এবং সুষ্ঠু জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসন আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যেকোনো ধরনের জ্বালানি মজুত বা অনিয়ম ধ্বংস করার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য, অবৈধ জ্বালানি মজুত রোধ এবং জেলেদের কার্যক্রম সচল রাখার এই ধরনের অভিযান দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কসমিক ডেস্ক