পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা চলাকালীন সময়ে বগুড়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তার শিশু কন্যা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতরা হলেন— আনিছুর রহমান (৩৫) এবং তার চার বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা খাতুন। গুরুতর আহত হয়েছেন আনিছুর রহমানের স্ত্রী পুস্পা আক্তার (২৫)। জানা গেছে, আনিছুর রহমান রংপুরে একটি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি উপলক্ষে আনিছুর রহমান তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাদের মোটরসাইকেলটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত যানবাহন তাদের ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার ফলে মোটরসাইকেল আরোহীরা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই আনিছুর রহমান ও তার শিশু কন্যা আয়েশা খাতুনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন পুস্পা আক্তার।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। তারা দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসক বাবা ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত পুস্পা আক্তারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন। পাশাপাশি আহত নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। তাই এ সময় সবাইকে আরও সতর্ক হয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিল, কিন্তু পথেই ঘটে গেল এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতা বা বেপরোয়া চালনা মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে মূল্যবান প্রাণ—এই দুর্ঘটনাই তার আরেকটি উদাহরণ।
কসমিক ডেস্ক