কিস্তির টাকা না দেওয়ায় নারীকে অফিসে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কিস্তির টাকা না দেওয়ায় নারীকে অফিসে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
কিস্তির টাকা না দেওয়ায় নারীকে অফিসে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: কিস্তির টাকা না দেওয়ায় নারীকে অফিসে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ঋণের কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেআরডিএম নামের ওই এনজিওর স্থানীয় শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক নারীকে দীর্ঘ সময় অফিসে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৩১ মে) বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। ভুক্তভোগী নারী মোছা. আলপনা বেগম, যিনি কালাই পৌরশহরের আঁওড়া কালিমহুর এলাকার বাসিন্দা এবং একজন দিনমজুরের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সংকটের কারণে দুই মাসের কিস্তি দিতে পারেননি বলে জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ তিনি ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং প্রতি মাসে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি পরিশোধের শর্তে তা গ্রহণ করেন। প্রথম পাঁচটি কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে পরবর্তী দুই মাসের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন।

অভিযোগে বলা হয়, রবিবার বিকেলে এনজিওর মাঠকর্মী জাহানারা বেগম কিস্তি আদায়ের জন্য তার বাড়িতে যান। এরপর ছেলের কাছ থেকে সময় চাওয়ার পরও মাঠকর্মী কৌশলে আলপনা বেগমকে এনজিও কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর ছেলে আজিজার রহমান জানান, তাকে ফোন করে জানানো হয় টাকা না দিলে মাকে ছাড়ানো যাবে না। এরপর তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। তার দাবি, তার মাকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে অফিসে আটকে রাখা হয় এবং বারবার মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।

আলপনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাকে বিভিন্নভাবে অপমান ও চাপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

অন্যদিকে এনজিও কর্মী জাহানারা বেগম দাবি করেন, টার্গেট পূরণ ও অফিসের চাপের কারণে তিনি ওই নারীকে অফিসে ডেকে এনেছিলেন। তিনি বলেন, বন্ধের দিন হলেও কিস্তি আদায়ের কাজ চালানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এনজিওর শাখা ব্যবস্থাপক আবু রায়হান ঘটনার দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বন্ধের দিনে কাউকে এভাবে আটকে রাখা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. আরমান হোসেন সরকার দাবি করেন, ঋণ আদায় কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ভুক্তভোগীকে অফিসে আনা হয়েছিল।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা এনজিওর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানান, কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। কাউকে এভাবে আটক করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে এনজিওগুলোর ঋণ আদায় পদ্ধতি ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গণভোট ইস্যুতে সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

গণভোট ইস্যুতে সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট