চাকরি ছাড়তেই হয়রানির অভিযোগ, আলোচনায় প্রথম আলোর অন্দরমহল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চাকরি ছাড়তেই হয়রানির অভিযোগ, আলোচনায় প্রথম আলোর অন্দরমহল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 25, 2026 ইং
চাকরি ছাড়তেই হয়রানির অভিযোগ, আলোচনায় প্রথম আলোর অন্দরমহল ছবির ক্যাপশন:

দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে সেই পরিচয়ের আড়ালে ভিন্ন এক বাস্তবতার অভিযোগ সামনে এনেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ফটোসাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতা সুদীপ্ত সালাম। তার লেখা বই ‘ফটোসাংবাদিকের জার্নাল : প্রথম আলোর অন্দরমহল’-এ উঠে এসেছে চাকরি ছাড়তে চাওয়া কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক সব দাবি।

সুদীপ্ত সালাম বর্তমানে একজন লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। বইটিতে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রথম আলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, প্রশাসনিক আচরণ এবং চাকরি ছাড়ার সময়কার নানা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার আগে দুই মাসের নোটিশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে নিজের জন্মদিনেই পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল এক মাস দায়িত্ব পালন করে বাকি সময় ছুটি ভোগ করবেন। কারণ তার পর্যাপ্ত জমা ছুটি ছিল।

তবে বিষয়টি জানার পর ভিডিও সাংবাদিকতা বিভাগের তৎকালীন প্রধান মহিউদ্দিন সাইফুল্লাহ শুভ্র নাকি এতে অসন্তুষ্ট হন। সুদীপ্তর ভাষ্যমতে, তিনি আশা করেছিলেন সুদীপ্ত আরও কিছুদিন কঠোর পরিশ্রম করবেন, যাতে বিভাগের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু ছুটির বিষয়ে নিজের অধিকার থেকে সরে আসতে রাজি হননি সুদীপ্ত।

এরপর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বইয়ে দাবি করা হয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়ে তার চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে শেষ মাসের বেতন থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। অথচ তখন তার নতুন কোনো চাকরি ছিল না এবং সেই অর্থ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সুদীপ্ত সালাম আরও অভিযোগ করেন, পদত্যাগের পরপরই তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনুসন্ধান শুরু হয়। প্রশাসন বিভাগের প্রধান উৎপল কুমার চক্রবর্তী এবং ব্যবস্থাপক এবিএম খায়েরুল কবির তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের তদন্ত চালান। কিন্তু কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি বইয়ে উল্লেখ করেছেন।

বইটিতে মোটরসাইকেল সংক্রান্ত একটি ঘটনাও উঠে এসেছে। সুদীপ্ত জানান, প্রথম আলোতে যোগ দেওয়ার সময় কর্মীদের জন্য একটি নীতি ছিল—অফিস থেকে দেওয়া মোটরসাইকেল ছয় বছর ব্যবহার করলে সেটির মালিকানা কর্মীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেই নীতির ভিত্তিতে তিনি একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করছিলেন।

কিন্তু চাকরি ছাড়ার সময় তাকে জানানো হয়, ছয় বছরের হিসাব ভিন্নভাবে ধরা হবে। পরে আবার জানানো হয়, এখন সাত বছর পূর্ণ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেও সমাধান না পেয়ে তিনি ২০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও নাকচ করা হয়।

সুদীপ্ত দাবি করেন, কোনো অভিযোগ খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য উপায়ে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও আটকে রাখা হয়েছিল বলে বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।

এই বই প্রকাশের পর দেশের মিডিয়া অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে কর্মীদের অধিকার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং চাকরি ছাড়ার পর আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকার পতনের পর ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী কয়েক শ আওয়ামী লীগার

সরকার পতনের পর ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী কয়েক শ আওয়ামী লীগার