পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিহত শ্রমিকের নাম Sohrawardy (৪০)। তিনি উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছামাদের ছেলে। আহত শ্রমিকের নাম মোস্তফা। তাকে গুরুতর অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা বাগানে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোহরাওয়ার্দীসহ তিনজন শ্রমিক বাগানে চা পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। কাজ চলাকালীন হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের সময় পাশে থাকা মোস্তফা গুরুতর আহত হন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা অপর একজন শ্রমিক অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত মোস্তফাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আটোয়ারী থানার এসআই Jahidul Islam ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এলাকায় আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে, যা চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তারা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় মৌসুমি বজ্রঝড় হঠাৎ করেই দেখা দেয়, যা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে পঞ্চগড়ের এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে বজ্রপাত বাংলাদেশের গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের প্রাণঘাতী ঝুঁকি হয়ে উঠছে।
কসমিক ডেস্ক