ইরানে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানায়, একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় সরাসরি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া তালিকায় অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের ছয়টি প্রদেশে একযোগে অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সরকারের দাবি অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আইআরএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি বেড়ে গেছে। এর মধ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অনুপ্রবেশ, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যক্রম নিয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছিল যে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সফল হয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ গ্রেপ্তার অভিযানকে ইরান তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গোপন ও প্রকাশ্য উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষ করে গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার অপারেশনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অঘোষিত সংঘাত অনেক বছর ধরেই চলমান।
ইরান সরকারের দাবি, দেশের ভেতরে কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব বা নাশকতামূলক কার্যক্রমকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে, মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া অতীতে একাধিকবার বলেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে ৩৫ জনের গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনা আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক