দেশের পাটখাতে রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পাটকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে নয়, বরং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ফিনিশড প্রোডাক্টে রূপান্তর করলেই অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিয়া হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলা–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে যদি বহুমুখী পাটপণ্য তৈরি করা যায়, তাহলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকার বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ে এবং পলিথিনের ওপর নির্ভরতা কমে।
মন্ত্রী বলেন, পাট শিল্পে কাঁচামাল বিক্রির তুলনায় প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করলে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন সম্ভব হয়। এতে শুধু রপ্তানি আয়ই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে তিনি জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, জ্বালানি খরচ বাড়লেও পণ্যমূল্যের ওপর এর প্রভাব সীমিত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার চলতে যে অতিরিক্ত খরচ হয়, তা প্রতি কেজি পণ্যে খুব সামান্য প্রভাব ফেলে। তাই বাজারে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাস্তব কারণের চেয়ে গুজব ও অপপ্রচারের ভূমিকা বেশি থাকতে পারে।
তিনি গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান, সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করতে, যাতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি না হয়।
রপ্তানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মন্দাভাব হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নুরুল বাসির এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রাহমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পাট খাত দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনাময় হলেও যথাযথ শিল্পায়নের অভাবে পুরো সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই খাত আবারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য এখন কাঁচামাল নির্ভরতা কমিয়ে পাটকে উচ্চমূল্য সংযোজন শিল্পে রূপান্তর করা, যা ভবিষ্যতে দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক