ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আলোচিত নারী প্রার্থী মেঘনা আলম। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে মেঘনা আলম নিজের অবস্থান, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি নিখুঁত নন এবং সব বিষয়ে পারদর্শী এমন কোনো ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’ও নন। একজন সাধারণ মানুষের মতো তাঁরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সেই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই তিনি এগিয়ে যেতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যায় ক্ষমতার অপব্যবহার, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা, দুর্নীতি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এসব বিষয় মোকাবিলায় সাহসী অবস্থান নেওয়াই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ। গত এক বছরে তিনি নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন বলেও জানান। খারাপ মানুষের আক্রমণের পাশাপাশি অনেক সময় ভালো মানুষের ভুল বোঝাবুঝি এবং অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন তিনি।
নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার বিষয়েও কথা বলেন মেঘনা আলম। তিনি জানান, তিনি সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন এবং দক্ষতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও পেশাদারভাবে লেখালেখি করতে সক্ষম। এসব দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তিনি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেটওয়ার্কের চেয়েও বিস্তৃত।
রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা দল নয়, বরং আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, যারা সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে এবং দেশের স্বার্থে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গেই থাকা উচিত। এই নীতিকে সামনে রেখেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করছেন বলে জানান।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যও তুলে ধরেন মেঘনা আলম। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে তিনি এমন কিছু উদ্যোগ নিতে চান, যা আগে দেশে কেউ করেনি। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী ও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
গণঅধিকার পরিষদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দলটির নেতা নুরুল হক নূরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নূর চিন্তা ও মেধায় তাঁর চেয়ে সিনিয়র এবং একজন অসাধারণ মনের মানুষ। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেঘনা আলম। তাঁর মতে, তারেক রহমান একটি সুপরিকল্পিত কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন এবং দেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। তাঁর দিকনির্দেশনা পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
সব মিলিয়ে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের মাধ্যমে মেঘনা আলম তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ভবিষ্যতে তাঁর পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।