বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করতে ‘স্মার্ট বর্ডার’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার (২২ মে) নয়াদিল্লিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। Hindustan Times-এর খবরে বলা হয়, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তকে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
অমিত শাহ বলেন, “দেশের সীমান্তকে স্মার্ট বর্ডারে রূপান্তর করতে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা ও অন্যান্য উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর কাজ আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার সদস্য ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান এবং পূর্বে বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দিয়ে থাকেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সীমান্তে নতুন ধরনের হুমকি দেখা দেওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলে মনে করছে ভারত সরকার।
অমিত শাহ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে এসব সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল মুদ্রা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো নানা ধরনের হুমকি বিদ্যমান রয়েছে। এসব মোকাবিলায় সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা প্রতিরোধ করা সরকারের দায়িত্ব। নরেন্দ্র মোদি-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অমিত শাহ জানান, শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, বরং রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী, সেনাবাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারগুলো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করতে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক