গাজায় টেকসই আশ্রয়ের সংকট, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গাজায় টেকসই আশ্রয়ের সংকট, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 21, 2026 ইং
গাজায় টেকসই আশ্রয়ের সংকট, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা ছবির ক্যাপশন:

গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক ঝড়ে প্রায় চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চলমান সংঘাত, অবরোধ ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও উপত্যকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানালেও ঝড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর বরাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র ফারহান হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিদিনের নিরাপত্তাজনিত ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সহায়তা কার্যক্রমের গতি ও পরিসর বাধাগ্রস্ত হলেও জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো গাজায় জরুরি সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

ফারহান হক জানান, গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়ে গাজা উপত্যকার অন্তত ৮০টি বাস্তুচ্যুতি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে চার হাজার পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব পরিবার ইতোমধ্যে মানবিক সংকটে থাকা অবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ ও অংশীদার সংস্থাগুলো দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। ফারহান হক জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬০টির বেশি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী, তাঁবু ও ত্রিপল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, গাজায় এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো টেকসই আশ্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে নতুন বসবাসযোগ্য স্থান তৈরি এবং পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।

এদিকে ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজার বানি সুহেইলা ও পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় লিফলেট ছড়িয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এসব এলাকায় এখনো ৪০০টির বেশি পরিবার বসবাস করছে, যারা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ আবারও সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ফারহান হক বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবরোধ একসঙ্গে গাজায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে। দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টিএফআই সেলে গুম মামলায় ১২ সেনা কর্মকর্তা সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে

টিএফআই সেলে গুম মামলায় ১২ সেনা কর্মকর্তা সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে