দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে, যা কৃষি ও পল্লী খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই তহবিলের প্রধান উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অঞ্চলে আয়বর্ধক কার্যক্রম বাড়িয়ে দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনমান উন্নয়নে এটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এই তহবিল পাঁচ বছর মেয়াদে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা এই স্কিমটি আবর্তনযোগ্য ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের পর সেই অর্থ আবার নতুনভাবে বিতরণ করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২ এই স্কিমের বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছর নির্ধারিত বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং তারা সেই অর্থ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত কৃষি ও পল্লী ঋণ ব্যাংকগুলোর বার্ষিক কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি খাতে অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কৃষি খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
কসমিক ডেস্ক