ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের অ্যাঞ্জেলেস শহরে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনও উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
রোববার ভোররাতে হঠাৎ করেই ভবনটি ধসে পড়ে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে যখন অধিকাংশ শ্রমিক ভবনের ভেতরে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ইতোমধ্যে দুইজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও পরে তাদের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনজনে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। তবে দুর্ঘটনার সময় সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন না, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা অত্যাধুনিক থার্মাল স্ক্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে কিছু মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের লক্ষণ শনাক্ত করেছেন। এতে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে এখনও কয়েকজন জীবিত থাকতে পারেন এবং তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তবে ধসের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের নির্মাণমান, নকশাগত ত্রুটি বা কাঠামোগত দুর্বলতা—সব দিকই তদন্ত করে দেখা হবে। ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ধুলা ও ধ্বংসস্তূপে পুরো এলাকা ঢেকে যেতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, যাতে জীবিতদের ঝুঁকি না বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ন ও নির্মাণ খাতে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ফিলিপাইনে এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে। তাই ভবন নির্মাণে কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে দেশজুড়ে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক