দীর্ঘ সাত বছর পর পরিবারের কাছে ফিরলেন সৌদি প্রবাসী রিজিয়া বেগম। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরার পর তাকে রাজধানীর উত্তরায় ব্র্যাক–এর মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানেই তাকে পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
রিজিয়ার বাড়ি বড়লেখা উপজেলা–র দক্ষিণ শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সৌদি এয়ারলাইন্স–এর একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ পৌঁছান। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথি না থাকায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দেয়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, পরে ঢাকায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা তার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন। টানা ১৩ দিন তিনি ব্র্যাকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সহায়তায় তার মা সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দালাল ও সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ২০২১ সালের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই।
এদিকে ব্র্যাক সেন্টারে রিজিয়াকে হস্তান্তরের সময় সৌদি ফেরত আরেক নারী নিজের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে গিয়ে একাধিকবার বিক্রি ও শারীরিক-যৌন নির্যাতনের শিকার হন। পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দেশের বাইরে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নারী কর্মীদের পরিচয় শনাক্তে এবারই প্রথম পিবিআই সরাসরি কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিজিয়া বেগম বর্তমানে পরিবারের সান্নিধ্যে থাকলেও তার শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক