প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঘোষণা করেছেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষক ভাইদের কাছে আমরা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে যাদের কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। আমরা কথা রেখেছি, এবং গত সপ্তাহে সেই ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা কোনোভাবেই পরিবর্তন হবে না। আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুটা দেরি হতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর আগে, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সময় পরিবারের অন্য কেউ কোনো ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করলে তা বহাল থাকবে, তবে নতুন সুবিধা শুধু নির্বাচিত নারীদের জন্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সরকার প্রান্তিক স্তরের মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও সুবিধার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মাওলানা তারেক রহমান বলেন, সরকারের নীতি অনুযায়ী এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম প্রান্তিক জনগণকে স্বাবলম্বী করতে, তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং অসহায় পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চলবে। এর পাশাপাশি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারা সময়মতো আর্থিক সুবিধা পাবেন, যা কৃষি কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কৃষক সমাজের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঋণ মওকুফ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কৃষকদের এই সুযোগ দ্রুততার সঙ্গে উপকারে আসছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য, প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং তাদের জীবিকা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক