দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের স্থবিরতার প্রভাব বাংলাদেশও অনুভব করছে। তবে এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ধারা আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে। এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর করা। তিনি বলেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এসব চুক্তি দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, নতুন সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত করতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা বাড়ানো হবে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশের জন্য সরকার কৌশলগতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
সিলেট সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
এরপর সার্কিট হাউসে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী সরকারের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও শিল্পনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার নিয়মিত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিমালায় সমন্বয় আনা হবে।
এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে চা শিল্প ও প্রবাসী বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট মহল মন্ত্রীর বক্তব্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, সরকারের ঘোষিত নতুন বাণিজ্য কৌশল বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক শিল্পখাতেও এর সুফল পৌঁছাবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নীতিগত স্থিতিশীলতার সমন্বয়ে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।