শিক্ষাঙ্গনে মাদক ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না: শিক্ষামন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শিক্ষাঙ্গনে মাদক ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
শিক্ষাঙ্গনে মাদক ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না: শিক্ষামন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ, নিরাপদ ও শৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, যেভাবে নকলবিরোধী কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমও ধাপে ধাপে জোরদার করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কচুয়া থেকে শুরু হওয়া নকলবিরোধী আন্দোলন ইতোমধ্যে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এখান থেকেই মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাঙ্গনে কোনোভাবেই মাদক, সন্ত্রাস বা ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ সহ্য করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের বিষয় নয়; বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমও বটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পরিবেশে রূপান্তর করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে পড়াশোনা করতে পারে এবং নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশ দুর্নীতিমুক্ত ও শৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র—এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস শুধু শিক্ষাঙ্গনের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই একটি বড় হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে।

এহছানুল হক মিলন আরও জানান, ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝরে পড়ার কারণ হয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী কচুয়া সফরে এলে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পুলিশ সুপার **রবিউল হাসান**সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপ নেবে। নকলমুক্ত পরীক্ষাব্যবস্থার মতোই যদি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান উন্নত হবে।

সব মিলিয়ে, নকলবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার এই উদ্যোগকে শিক্ষাখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে ভারত–বাংলাদেশ, বলেন হাইকমিশনার

নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে ভারত–বাংলাদেশ, বলেন হাইকমিশনার