শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মোট ২৩ দিন সময় পাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য। প্রতীক বরাদ্দের পর আগামী ১৬ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১১ মার্চ পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ১৫ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং তার পরদিন ১৬ মার্চ থেকে তারা মাঠে নেমে ভোটারদের কাছে প্রচারণা চালাতে পারবেন। প্রচারণা চলবে ৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
শেরপুর-৩ আসনে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশন এই আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শেরপুর-৩ আসনের এক বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে এই আসনে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করে।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন।
এই আসনের উপনির্বাচনের পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হন। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি সংসদীয় আসনের সদস্য থাকতে পারেন না। তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং নতুন তফসিল দিয়ে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনের উপনির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়তে পারে। এছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্থানীয় রাজনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন প্রার্থীরা। আর ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই দুই আসনের উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।
কসমিক ডেস্ক