ইসলামের দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণ শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম মানুষকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছে। এমনকি হাদিসে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি শহরের সৌন্দর্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বসবাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর। রাস্তাঘাট, ড্রেন, বাজার, পার্ক ও জনসমাগমস্থলে আবর্জনা ফেলে রাখা পরিবেশ দূষণ ও রোগব্যাধির কারণ হয়। ইসলাম এমন সব কাজকে নিরুৎসাহিত করেছে, যা মানুষের কষ্ট বা ক্ষতির কারণ হয়। বরং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াকে সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন (সুরা তাওবা: ১০৮, সুরা বাকারা: ২২২)। এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, ইসলাম শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
কোরবানির সময় এ শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় কোরবানির পর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করার কারণে পরিবেশ দূষিত হয় এবং জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ অন্যকে কষ্ট দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার কষ্ট থেকে আশপাশের মানুষ নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। আবার তিনি আরও বলেছেন, রাস্তায় কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া ঈমানের একটি শাখা (সহিহ মুসলিম)।
এছাড়া, রাসুল (সা.) সুগন্ধি ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে মসজিদে আসার নির্দেশ দিয়েছেন, যা সামাজিক পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
অতএব, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্র বা সিটি কর্পোরেশনের নয়; বরং কোরবানি দাতারও নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব রয়েছে। যথাসময়ে বর্জ্য অপসারণ না করলে তা অন্যের কষ্টের কারণ হয়, যা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
সুতরাং, পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত সমাজ গঠন শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়; এটি ইসলামের শিক্ষা, মানবতার দাবি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
কসমিক ডেস্ক